ইসরায়েলি বর্বরতা এতো দূর গিয়ে ঠেকেছে যে, ঈদুল ফিতরের দিনও গাজায় নৃশংস হামলা চালাতে দ্বিধা করেনি তারা। প্রাণঘাতী সেই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি নারী, শিশু কেউই। ৩০ মার্চ চালানো ওই হামলায় অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বর্বরতম এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা। ঈদ উৎসবের পোশাক পরিহিত অবস্থায় শিশুদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইসরাইলের ফ্যাসিবাদি নগ্নতা নতুন করে সামনে এসেছে, বলছে তারা।
ঈদের দিন ওয়েস্ট ব্যাংকেও বিভিন্ন স্থানে বর্বরতা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। অনেক জায়গায় ঈদের নামাজ শেষে কবর জিয়ারতের জন্য জমায়েত হওয়া মুসল্লিদের টিয়ার গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।
এদিকে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শেষ খবর পর্যন্ত এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে।
ঈদ কোনো উৎসব আকারে নয়, মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়েছে গাজাবাসীর সামনে। কারো মনেই নেই বিন্দুমাত্র আনন্দ। শোক আর আতঙ্ক নিয়ে জীবন বাঁচাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে তাদের। হামলা অব্যাহত রাখতে সকল বাসিন্দাকে রাফাহ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। খান ইউনিসেও চলছে হামলা।
এরই মাঝে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাতে হলে অস্ত্র সমর্পণ করে হামাসের সকল নেতাকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে। একই সাথে গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব দিতে হবে ইসরাইলকে। অন্যথায় হামলা চলবে বলে হুঁশিয়ারি এসেছে।
এদিকে ঈদের দিন ধারাবাহিক বিমান হামলার শিকার হয় মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ইয়েমেনও। উৎসবের দিনও ওই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী সানাসহ সাদা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা ফেলে মার্কিন বাহিনী। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদও।
ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিরস্ত করতেই তাদের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয় বলে দাবি ওয়াশিংটনের। তবে হামলার ঘটনা ঘটেছে আবাসিক এলাকাতেও। এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য মানুষ হতাহত হয়েছে।
একের পর এক হামলায় ঈদের দিনটিও নারকীয় হয়ে ওঠে ইয়েমেনিদের জন্য। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের জেরে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কবলিত ইয়েমেনে চলমান এসব হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল থেকে জটিলতর করে তুলছে।
ইয়েমেনের বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জিনহুয়া জানিয়েছে, ঈদ আনন্দের হবার কথা থাকলেও মার্কিন হামলায় তা রূপ নিয়েছে বিষাদে। অনেকেই হামলার ভয়ে বাইরে না বেরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল। কেনাকাটা করারও সুযোগ পায়নি। ইয়েমেনিদের যেখানে প্রয়োজন খাদ্য সহায়তা, সেখানে আকাশ থেকে পড়ছে বোমা। তাদের জীবন যেন আটকা পড়ছে নতুন আরেক ফাঁদে।
আপনার মতামত লিখুন :