binodonerpadmaful
ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

আজ চিত্রনায়ক আলমগীরের ৭৫তম জন্মদিন


বিনোদনের পদ্মফুল | বিনোদন প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম আজ চিত্রনায়ক আলমগীরের ৭৫তম জন্মদিন

আজ ৩ এপ্রিল, চিত্রনায়ক আলমগীরের ৭৫তম জন্মদিন। নন্দিত চিত্রনায়ক আলমগীর। তিনি একাধারে নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক। গুণী এই অভিনেতার জন্মদিন আজ বুধবার। আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তার শৈশব যৌবন কেটেছে তেজগাঁও এলাকায়। তার প্রথম প্রযোজিত সিনেমা ‘ঝুমকা’। একসময় রাজধানীর গ্রিনরোডে একটি স্কুলে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে গানও শিখেছিলেন তিনি। মোস্তফা মেহমুদের ‘মনিহার’ সিনেমায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সত্য সাহার সুর সংগীতে প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি। সফল অভিনেতা আলমগীর ঢাকাই চলচ্চিত্র শিল্পীদের একজন অভিভাবকও।
তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে কলেজ জীবনে নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু হলেও মূলত ১৯৭২ সালের ২৪ জুন প্রয়াত বরেণ্য পরিচালক আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি এই সিনেমা মুক্তির আগেই আলমগীর সিরাজুল ইসলামের ‘দস্যুরানী’ (১৯৭৪), আজিজুর রহমানের ‘অতিথি’, আলমগীর কুমকুমের ‘মমতা’, মোহর চাঁদের ‘হীরা’ সিনেমার কাজ শুরু করেন।
সর্বশেষ তিনি তার নিজের পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করেন।  ১৯৭৫ সালে তিনি শাবানার বিপরীতে ‘চাষীর মেয়ে’ ও কবরীর বিপরীতে ‘লাভ ইন শিমলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৮ সালে ‘জিঞ্জির’ চলচ্চিত্রে সেই সময়ের প্রতিষ্ঠিত নায়ক রাজ রাজ্জাক ও সোহেল রানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে আরও অধিক পরিচিত হয়ে উঠেন।
এ অভিনেতার জন্মদিনে কথা হয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও শিক্ষক মতিন রহমানের সঙ্গে। ৩৪ বছর আগে ‘অন্ধ বিশ্বাস’ সিনেমার শুটিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি সামনে আনেন তিনি।
সময়টা ১৯৯১ সালের মে জুন। অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে পুরো ইউনিট নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে। পুরো জায়গায় ছিল জাহাজের বিভিন্ন অংশ ও যন্ত্রাংশ। ভারী এসব জিনিস তোলার জন্য সেখানে বেশ কয়েকটি বড় ক্রেন ছিল। সেখানের সবচেয়ে বড় একটি ক্রেন দেখিয়ে পরিচালক মতিন রহমানকে আলমগীর জানান, এটাতে ঝুলে ঝুলে তিনি নিজে একটি দৃশ্য করতে চান। নায়কের এ কথা শুনে পরিচালক সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করে দেন। স্টান্টম্যান ও পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আলমগীর বেশি চাপাচাপি করলে মতিন রহমান অ্যাকশন ডিরেক্টরের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কিন্তু সেখান থেকেও অনুমতি আসেনি। অভিনেতাকে বোঝানো হয় শূন্যে ক্রেনের গতির সঙ্গে ঝুলে থাকা সহজ কোনো বিষয় নয়। তবে আলমগীর নাছোড়বান্দা।
এ দৃশ্যে তিনি অভিনয় করবেনই। নায়কের কথা মেনে দৃশ্যধারণের জন্য সবাই তৈরি হন। পরিচালক চলে যান ক্যামেরার কাছে, আর আলমগীর চলে যান ক্রেনের  হুকে। এরপরই আসে অনাকাঙ্খিত সে সময়, যার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউই!
সেদিনের বাকি গল্প শোনা যাক পরিচালক মতিন রহমানের বয়ানে, ‘আলমগীর ভাই এত নিবেদিত একজন শিল্পী। তাঁকে আমরা কেউ আর আটকাতে পারলাম না। সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে আমি চলে যাই ক্যামেরার পেছনে। দৃশ্যটির শুটিং শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখি ক্রেন চলছে, কিন্তু সেখানে আলমগীর ভাই নেই। সবাই মিলে হন্যে হয়ে দৌড়াচ্ছি, এমন সময় দেখি তিনি নদীতে পড়ে গেছেন। ফাইটের টিমের কয়েকজন সেখানে গিয়ে দেখেন তিনি পানিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন।
এ দুর্ঘটনায় আলমগীর ভাই পায়ে মারাত্মক আঘাত পান। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়েছিল তাঁকে। ছয় মাস শুটিং বন্ধ ছিল আমাদের। ডাক্তারের পরামর্শে বিশ্রাম শেষ হলে বিএফডিসিতে সেট বানিয়ে আমরা সিনেমার বাকি কাজ শেষ করি।’
দুর্ঘটনার সময় সেখানে সিনেমার বাকি অভিনয়শিল্পীর মধ্যে রাজ্জাক, শাবানা ও আনোয়ারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় পুরো ইউনিট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সে সময়। সিনেমাটি আরও অভিনয় করেছিলেন নূতন, আনোয়ারা ও রাজীব। সিনেমাটির চিত্রগ্রাহকের দায়িত্বে ছিলেন মাহফুজুর রহমান খান। এ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান মতিন রহমান। শিল্প নির্দেশনায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন বিজয় সেন।

Side banner